চট্টগ্রাম-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের শেখপাড়া এলাকা এখন যেন এক উন্মুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য ভাগাড়। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের পাশেই বছরের পর বছর ধরে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার গৃহস্থালির বর্জ্য, বাজারের পচনশীল আবর্জনা, প্লাস্টিক-পলিথিন, মৃত পশুপাখির দেহাবশেষ এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থার অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতিতে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল বর্জ্যের পাহাড়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই পচা বর্জ্যের পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। দীর্ঘ বছর ধরে একই অবস্থা চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, শেখপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দুর্গন্ধে গাড়ির জানালা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ বলেন, ইকোপার্ক এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এক একরের বেশি খাস জমিতে আধুনিক ডাম্পিং জোন স্থাপনের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, পৌর এলাকার বাইরে থেকেও অনেকেই মৃত গরু, ছাগল ও কুকুর এনে ভাগাড়ে ফেলে যান। বিষয়টি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে স্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাম্পিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব পাওয়া গেলে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।