Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / সারাদেশ
৩:১৩ অপরাহ্ণ, ৬ আগস্ট ২০২৬

নতুন লঘুচাপে সারা দেশে বাড়বে বৃষ্টি

নতুন লঘুচাপে সারা দেশে বাড়বে বৃষ্টি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সকাল ছয়টা নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫০ মিলিমিটার। সারা দেশেও কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার রেকর্ড হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়।

এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৫৪, সন্দ্বীপে ১২৬, নেত্রকোনায় ১২১, কক্সবাজারে ১১৯, গোপালগঞ্জে ১১২ ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সারাদিন সারা দেশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, আগামী ১০ আগস্ট মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাবে ১৪ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবারও দেশজুড়ে বৃষ্টি থাকবে, এরপর শুক্রবার থেকে কিছুটা কমে ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিরতি থাকতে পারে। অর্থাৎ তিন দিনের বিরতির পর ১০-১১ আগস্ট থেকে আবার বৃষ্টি বাড়বে, আর নতুন লঘুচাপের প্রভাবে তা আরও বাড়তে পারে।

বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম বলছে, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আংশিক বৃষ্টি বলয় ‘নির্ঝর’, যার প্রভাবে আজই বৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত, যার একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত গেছে। এর প্রভাবে আজ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত দুটি নদীর দুটি পয়েন্ট বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে—তিস্তার তারাপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৮৮টিতে পানি বেড়েছে, ৩২টিতে কমেছে, বাকি সাতটি অপরিবর্তিত। তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া, দুধকুমারের পাটেশ্বরী, সোমেশ্বরীর কলমাকান্দা এবং কুশিয়ারা-সুরমার একাধিক পয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।

এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত এবারের বর্ষার সামগ্রিক অস্বাভাবিক চরিত্রেরই ধারাবাহিকতা। গত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিহীন থাকার পর এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৬ শতাংশ বেশি ও জুনে ২৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। জুলাইয়ে দেশজুড়ে গড়ে ৬৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। ৫-১২ জুলাই আট দিনে চট্টগ্রামে ১,৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ৭ জুলাই একদিনেই রেকর্ড হয় ৪১২ মিলিমিটার—গত চার দশকের সর্বোচ্চ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে এই আট দিনের বৃষ্টি দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, মৌসুমি বায়ু এখন দেরিতে প্রবেশ করে পরে স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগর ড্রেনেজ, খাল-জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও এলাকাভিত্তিক পূর্বাভাস ছাড়া বদলে যাওয়া এই বর্ষার ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে—আগামী ১০ আগস্টের সম্ভাব্য নিম্নচাপও যেন সেই সতর্কতারই নতুন ইঙ্গিত।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম