Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / জাতীয়
১:২২ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে ধেয়ে আসছে ভারতীয় ঢল, বন্যার আতঙ্কে মানুষ

উত্তরাঞ্চলে ধেয়ে আসছে ভারতীয় ঢল, বন্যার আতঙ্কে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভারত থেকে উত্তরাঞ্চলে ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। এতে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। প্লাবিত হচ্ছে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল। দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ ।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নীলফামারীতে তিস্তা উত্তাল হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজকের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩২ মিমি.। ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে নীলফামারীর ডিমলায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেমি. যা বিপৎসীমার ১৩ সেমি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় তিস্তার পানি একই মাত্রায় প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, গত দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটসহ তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

গতকাল বুধবার সকালে নীলফামারীর ডিমলায় অবস্থিত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৩ সেমি.। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেমি.। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সকাল ৬টা এবং সকাল ৯টায় পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ১০ সেমি. উপর ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত মাসেও তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল। তবে একদিন পর পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক স্থানে নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে কাজ করা হলেও তা টেকসই হয় না।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। গতকাল সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম