ভারতে আবারও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার এই তালিকায় যোগ হয়েছে নতুন পণ্য পিইটি ফিল্ম (PET Film)। বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে—অর্থাৎ অস্বাভাবিক কম দামে—ভারতে পিইটি ফিল্ম রপ্তানি করা হচ্ছে এবং এতে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির উৎপাদকরা।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) একটি তদন্ত শুরু করেছে এবং আগামী ১৩ জুলাই এক শুনানির আয়োজন করেছে। সম্প্রতি ডিজিটিআরের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে পেরেছে।
কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাজার দখলের উদ্দেশ্যে তাদের নিজেদের বাজারের চেয়ে কম দামে অন্য দেশে পণ্য বিক্রি করলে এবং এতে আমদানিকারক দেশের দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তা রোধ করতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়।
ডিজিটিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ডাম্পিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শুনানির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ডের রপ্তানিকারক, ভারতীয় উৎপাদক এবং আমদানিকারকদের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা। প্রথমে মৌখিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে লিখিত বক্তব্য ও পাল্টা যুক্তি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করা হবে।
এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান রপ্তানিকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড এবং নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন অংশ নেবে। অন্যদিকে ভারতীয় তিন আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেডকে পক্ষ করা হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি ও আইনজীবীদের তথ্য ডিজিটিআরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
পিইটি ফিল্ম মূলত প্যাকেজিং শিল্পে বহুল ব্যবহৃত একধরনের প্লাস্টিক ফিল্ম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি রপ্তানি পণ্য এবং ভারত এর অন্যতম প্রধান বাজার।
বাংলাদেশে পিইটি ফিল্মের প্রধান উৎপাদক আকিজ বশির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড। ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত এই কারখানাটি বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম ভারতেসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।
বৈশ্বিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে পিইটি ফিল্মের বাজার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের, যা ২০৩০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার মুহূর্তে ভারতীয় পদক্ষেপটি দেশীয় শিল্পের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের ঘটনা এটিই প্রথম নয়:
বর্তমান পিইটি ফিল্মের শুনানিতে সঠিক তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমেই কেবল এই সম্ভাব্য শুল্ক থেকে বাংলাদেশি শিল্প রক্ষা পেতে পারে।