চার বছর ধরে কনটেইনার পরিবহনে শীর্ষে এনসিটি, দ্বিতীয় জিসিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের প্রধান টার্মিনালগুলোর মধ্যে সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কনটেইনার পরিবহনে টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), তৃতীয় স্থানে চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে সৌদি আরবের পরিচালিত আরএসজিটি চিটাগং (পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল)।
শীর্ষ টার্মিনালগুলোর পারফরম্যান্স ও অবস্থান
এনসিটি (১ম স্থান): ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টার্মিনালটিতে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮% বেশি। আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন ও অবকাঠামোর সুবিধায় ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকেই এনসিটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড’ এটি পরিচালনা করছে এবং ইউএই-এর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে এটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
জিসিবি (২য় স্থান): একসময় দেশের শীর্ষ এই সুবিধায় বিদায়ী অর্থবছরে ১০ লাখ ৩৬ হাজার একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮.২৪% কম। বার্থ অপারেটরদের মতে, জাহাজ বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে এখানে পরিবহন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সিসিটি (৩য় স্থান): স্বাধীনতার পর নির্মিত প্রথম এই পূর্ণাঙ্গ টার্মিনালে পরিবহন হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার একক কনটেইনার। গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো পুরোনো হয়ে বিকল হওয়ার কারণে সিসিটিতে আগের বছরের তুলনায় পরিবহন ২১% কমেছে।
আরএসজিটি চিটাগং (৪র্থ স্থান): ২০২৪ সালের জুনে যাত্রা শুরু করা এই পতেঙ্গা টার্মিনালে এক বছরে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ২৬৮%। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এটি ২ লাখ ৭৯ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। বর্তমানে এতে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মোংলা বন্দর: চট্টগ্রামের বাইরে মোংলা বন্দরের দুটি জেটিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২৯ হাজার ৭৫১ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৮% বেশি। তবে দেশের মোট কনটেইনার পরিবহনে মোংলা বন্দরের অংশ এখনো মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রতিযোগিতামূলক সেবার প্রয়োজনীয়তা
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল রাখতে বন্দর থেকে দ্রুত কনটেইনার খালাস ও জাহাজীকরণ অত্যন্ত জরুরি। তবে বর্তমানে কোন জাহাজ কোন জেটিতে ভিড়বে, তা প্রধানত বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেয়। ফলে বিভিন্ন অপারেটরের মধ্যে সেবার মান ও মাশুল নিয়ে মুক্ত প্রতিযোগিতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ব্যবহারকারীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে এবং সময়- খরচ কমাতে অপারেটরভিত্তিক কর্মদক্ষতার মানদণ্ড ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।