কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে যেখানে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়, বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ঘুরে খুচরা বাজারে তা গিয়ে ঠেকে ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সায়।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক সংলাপে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফা ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির।
সিপিডির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কৃষক বা ফার্ম থেকে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি (৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ) নিয়ে কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী কোভিডের পর মূল্যস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে তা কমছে না। এর অন্যতম মূল কারণ অতিরিক্ত ‘লজিস্টিক’ খরচ। সারাবিশ্বে লজিস্টিক খরচ জিডিপির গড়ে ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ।
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “টানা দুই বছর ধরে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হলেও কৃষকেরা তাঁদের সঠিক মুনাফা পাচ্ছেন না।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লজিস্টিক ও আমদানি খরচ কমানোর ওপর জোর দেন মন্ত্রী। সেই সাথে তথাকথিত চাঁদাবাজি বা ‘অপ্রদর্শিত খরচ’ কমানোর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তর চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে।”