সেই পথে আবার যদি হয় দেখা,
দুহাত বাড়িয়ে তুমি, বন্ধু,
আমায় নেবে কি কাছে?
সারসের অবিরাম ডেকে চলা
নির্জন দুপুরে,
যদি হঠাৎ দেখা হয় পুকুরঘাটে—
সেই আকাশি রঙের শাড়ির আঁচলে
রাখবে কি তোমার মুখ ঢেকে?
স্নানের জলের মায়াবী গন্ধ
শুঁকে-শুঁকে
তপ্ত দক্ষিণা হাওয়া
বইবে কি গোপনে,
তোমার চুলের ফাঁকে ফাঁকে
আমার হারিয়ে যাওয়া দুপুরের মতো?
আবার যদি দেখা হয়
কোনো এক মেঘলা দিনে,
শিমুলের ডালে,
মাছরাঙা কি গাইবে প্রেমের গান?
দীঘির জলে উঠবে কি ঢেউ!
আমাদের পুরোনো ভালোবাসার মতো অনাবিল?
হিজলবন ছুঁয়ে যাওয়া মাঠে
কে আঁকবে আল্পনা—
তোমার রূপের ফাগুনধারায়?
কে জানে, হয়তো বাতাসও সেদিন,
তোমার নাম ধরে ডাকবে
অতি গোপনে, অতি নিঃশব্দে।
তোমার ঠোঁটের সেই কালো তিল
আজও এক রহস্যের দরজা—
যার চাবি খুঁজতে-খুঁজতে
জোছনার রাত ফুরিয়ে যায়।
আবার যদি কোনোদিন দেখা হয়,
চাঁদের আলোয়
সেই রহস্যের জাল খুলে
আমি কি আবার ছুঁতে পারবো
তোমার হারিয়ে যাওয়া মুখ?
আবার যদি দেখা হয়—
যদি সত্যিই দেখা হয় কোনোদিন!
তবে কি তুমি চিনবে আমায়?
নাকি দুজন দুদিকে চলে যাব
অচেনা পথের যাত্রী হয়ে?
তবু আমি অপেক্ষায় থাকব—
সেই পুকুরঘাটে,
সেই হিজলবনের ছায়ায়,
সেই মেঘলা দুপুরে—
যেখানে সারস ডাকে,
দক্ষিণা বাতাস গোপনে বয়ে যায়,
আর আমার সমস্ত না-বলা ভালোবাসা
শুধু তোমার জন্য
আজও কবিতা হয়ে রয়।