তুরাগে রক্তের স্রোতধারা
পি. আর. প্ল্যাসিড
তুরাগ একটি নদীর নাম,
স্মৃতির ভাঁজে যার শান্ত অবিরাম।
কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের দ্বারে,
কতবার সাঁতার কেটেছি তারই পারে।
কখনো বন্ধুদের নিয়ে হোস্টেল ফাঁকি,
লঞ্চের ডেকে কেটেছে বিকেল-রাতের বাকি।
স্বচ্ছ ছিল তার জল, নির্মল ছিল প্রাণ,
সূর্যাস্তের আলোয় জাগত সোনালি গান।
পানির বুকে রোদের হাসি,
ঢেউয়ের সাথে খেলত ভাসি।
চেয়ে থাকতাম মুগ্ধ চোখে,
পাশের সাথী বলত মৃদু শোকে-
“কী অপূর্ব! কী স্বচ্ছ এই নদীর জল,
প্রকৃতির বুকে এ যেন অনন্ত সম্বল।”
আজ এত বছর পরে শুনি,
তুরাগের বুক লাল রক্তে রঞ্জিত ধরণী।
বাংলা মায়ের সন্তানের তাজা রক্তধারা,
ভাসিয়ে দিয়েছে নদীর নীল পাড়াপাড়া।
হায় বাংলাদেশ! হায় মুখোশ-পরা মানুষ!
কোথায় হারাল বিবেক, কোথায় মানবতার স্পর্শ?
তুরাগের জলে আজ যে প্রতিচ্ছবি ভাসে,
সে কি আমাদেরই জাতির মুখ, ইতিহাসের পাশে?
নদী কাঁদে, আকাশ নীরব,
বাতাস বয়ে আনে দীর্ঘশ্বাস অবিরত।
তুরাগ আজ শুধু নদী নয়-
একটি জাতির বিবেকের নীরব আর্তনাদ হয়ে রয়।