গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়
মনে হয় মাটির নিচের ওই অন্ধকার কবরটাই বুঝি
সব হিসেব নিকেষের শেষ ঠিকানা।
চোখটা বুজলেই ভাবনায় চমকে ওঠে মন!
অনাহুত সব আচরণে আমরা প্রতিদিন,
প্রতি নিয়ত এক একটা জীবন্ত কবরস্থান
বুকে নিয়ে হেঁটে চলেছি সারাক্ষণ ——
সারা দেহটাকে যে মস্তিষ্কধারণ করে, এটাই—
বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও নীরব গোরেস্থান।
এর ভেতর কোনো কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তে হয় না কোনো কাফনের কাপড়ের প্রয়োজন পড়ে না,
অথচ প্রতিদিন কত শত রঙিন স্বপ্ন,স্বাদের ইচ্ছেগুলো
কত চেনা মানুষের মুখ, কত তীব্র আকাঙ্ক্ষা
আর না-বলা কথা ও আক্ষেপ নীরবে দাফন হয়ে যায়।
কৈশোরের সেই না বুঝা ভাষা যৌবনের কপাট খুলে
একসময় আঁখি জুড়ে ভেসে বেড়াতো রঙিন ভেলায়,
আজ সে সব জিন্দালাস হয়ে মস্তিষ্কের কোনে
ধূসর বর্ণহীন শুয়ে থাকা এক নিথর স্মৃতি মাত্র।
হয়তো বা সবাই হাসিমুখে ঘুরে বেড়াই,
সমায়ের ফাঁদে উড়ে বেড়াই,আড্ডায় মজে থাকি
অথচ প্রত্যেকের ভেতরেই জমে থাকে
একরাশ অপূর্ণ আঁধারে ভরা আশার কফিন।
আশাহত এই কবরে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয় না
কেউ ফুল দিতে আসে না,চোখের জল ও ফেলে না
স্মৃতি চারণ করে কেউ দু মিনিট থমকে ও দাঁড়ায় না।
কেবল নিঝুম রাতে সেথায় চৈতালী স্মৃতির বাতাস বয়
তখন বুকের ভেতরটা হু -হু করে কেঁদে ওঠে,
মাটির কবর তো কেবল দেহটাকে আড়াল করে
কিন্তু মস্তিষ্কের এই কবরটায় প্রতিনিয়ত
আত্মাকে নীরব হাহাকারে পুড়িয়ে মারে।
কে রাখে তার খোঁজ কোন জনমে–
কে দেয় ফেরারি সৈকতে হারানো বেদনার কৈফত?