শুধু তাকিয়ে থাকে মানুষটি
তিমির রাত্রি যেনো ছেয়ে গেছে জনপদটি
যে পথে হেঁটেছেন মহাকাল
কংক্রিটের দেয়ালের ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে
দীর্ঘ পথচলার চিহ্ন
চোখের দৃষ্টি আবছা হয়ে যেনো
মিশে গেছে আজ অজানার পথে
প্রিয় ঘর,প্রিয় বারান্দা,
প্রিয় ডাইনিং টেবিল,
সাজানো চেয়ার-
গুছানো থাকে থাকে প্রিয় বসন
সবকিছু ছাপিয়ে দৃষ্টির সীমানা
কোথায় মিলিয়ে গেলো।
প্রিয় মানুষ, প্রিয় সন্তান
প্রিয় স্পর্শ;
আজ আর আন্দোলিত করে না,
কতো কথা!
ক্রিকেট, ফুটবল, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক
কতো আড্ডা!
বাবা আর ছেলের কতো সখ্যতা
এসব কোথায় হারালো সব!
সারাদিনে কতো ফোন
কতো ভাবনা
কতো চিন্তা সবাইকে নিয়ে!
ইদের দিনে;
ভোরবেলা কুরআন তেলওয়াত
পাশাপাশি ইদগায়ে বসা
একসাথে নামাজ,
কতো স্মৃতি, কতো ইতিহাস!
কেনো, আর ফোন আসে না তোমার!
এ নিষ্ঠুর জীবন, এ নির্দয় বাস্তবতা
বড় কাঁদায়!
বড় পোড়ায়!
কেনো এই বন্ধনের মায়াজাল
মরীচিকা জীবন।
সেই দৃষ্টি, সেই প্রিয় হাসি
প্রিয় মুখ,
পরিপাটি পোশাক
কথার মাঝে কি যে যাদু!
অনর্গল বাংলা ইংরেজি
হাতের লেখা!
যেনো মুক্তোর ছড়াছড়ি
চোখের সেই দৃষ্টি!
হায়রে বাবা,
নিরব কেনো হলে তুমি!
কতো কথা বলার ছিলো!
সব থেকে গেলো বাকি
শুধু তাকিয়ে থাকা
এই নিরব চাহনি
তোমার এই চোখের দৃষ্টি
যেনো ভেঙে চৌচির করে হৃদয় জমিন
অনন্তের পথে পাড়ি দেবার
বুঝি সব আয়োজন হলো তোমার।