অদ্ভুত এক সকাল নামে—
রোদের গায়ে শিশিরের গন্ধ,
ঘুমজড়ানো জানালায় এসে
অনাহত এক আগুনপাখি
ছুঁড়ে দেয় আদরের নরম ডানা।
তখন বুকের গভীরে
যত্নে রাখা কান্নাগুলো
নিঃশব্দে খুলে বসে দরজা,
চোখের ভেতর ভাঙে নদী,
যন্ত্রণারা জেগে ওঠে জোয়ার হয়ে।
তবু এক ঘরফেরা অবুঝ পাখি
বন্ধুর খোঁজে ডাকে গাঁয়ের পথে,
বুকভরা আকাশ মেলে ধরে
শিশিরভেজা ঘাসের ঠোঁটে
রেখে যায় উষ্ণ চুম্বনের ভাষা।
সে আঁকতে চায় নতুন পৃথিবী—
যেখানে সমাজের কাঁটাতার নেই,
নেই চোখ রাঙানো নিয়মের দেয়াল;
গোপন অভিসারে জেগে থাকে
স্বপ্নের নীল বিদ্রোহ।
নিস্তব্ধ সকালের সবুজ আলো,
সোনালি রোদ আর গোলাপি উষ্ণতা
একাকার হলে
ঝরে পড়ে কয়েক ফোঁটা দামী স্বপ্ন,
সময় তখন হাওয়ার পালকিতে দোলে।
ধীরে ধীরে নামে নীরবতা,
শহর ঢেকে যায় অনুচ্চারিত বিষাদে,
তবু সেই অবুঝ পাখি
অন্তর্দাহ বুকে নিয়েও
উড়তে থাকে অবিরাম।
সুনীল আকাশের দিকে,
নির্মল বাতাসের ভাঁজে,
মাটির গন্ধের গভীরে—
কারণ সে জানে,
প্রতিটি দীর্ঘ উড়ানের শেষে
কোনো না কোনো জানালায়
অপেক্ষা করে থাকে
একটি আলো,
একটি ঘর,
একটি মানুষ।