কণ্টকাকীর্ণ জঙ্গলের মাঝে একটা হাসনাহেনা গাছের মতো তুমি ।
রাতের আঁধারে তোমার সুগন্ধি নিঃশ্বাসে মৌমৌ করে চারদিক।
যত গভীর হয় রাত
তোমার নিঃশ্বাস গভীর হয় তত।
তোমার মাতাল গন্ধে উতলা হওয়ার মতো
এখানে কেউ নেই।
তোমার সুগন্ধি নিঃশ্বাসে শুধু
বুনো ছাতিমের শাখায় ক্ষুধার্ত বাদুড়ের লাল চোখ
বেতঝাড় আর শিমুলের কর্কশ দেহ মসৃণ হয়।
জোনাকি পোকারা তার আলো দিয়ে গান গায়
আকাশের তারাগুলো মিটিমিটি চেয়ে থাকে
ঝিঁঝি পোকার আর্তচিৎকার তোমার সুগন্ধি ঘিরে ঘুরপাক খায়।
পাহাড় থেকে নেমে আসা চঞ্চলা ঝর্ণার মতো তুমি ।
প্রবল জলের স্রোতে কলকল ছন্দে বয়ে চলো অবিরাম,
কখনও আনন্দে কখনও গভীর বেদনায়।
সে আনন্দের উচ্ছল ধারা আলোকিত করে চারধার
বেদনার নীল অনুভূতি আনে শূন্যতা হাহাকার।
শুধু নির্বিকার পাহাড়ের বুক চেরা পথ।
তুমি ভোরের এক চিলতে সোনালী রোদ্দুর।
ঠান্ডা শরীরে উষ্ণতার প্রলেপ জড়িয়ে,
ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখো প্রিয়মুখ।
দিন শেষে হয়ে যাও একা।
গোধূলির রাঙা আলোকে দিয়ে যাও সব অনুরাগ
বেদনা গুলো গচ্ছিত রাখো আঁধারের বুকে,
মনের হতাশাগুলো রেখে যাও শুকতারার কাছে।
আঁধারের সুগন্ধি তুমি প্রেমের পরাগ।