র্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে না, নাম বদলে হচ্ছে ‘এসআরএফ’ বা ‘এসআরবি’
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের বিলুপ্তির সুপারিশ সত্ত্বেও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-কে বিলুপ্ত না করে নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স’ (এসআরএফ) অথবা ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে একটি নতুন ইউনিট গঠনের জন্য নতুন আইনের খসড়া তৈরি করছে।
মূল পরিবর্তন ও প্রস্তাবনাসমূহ:
নতুন নাম ও আইন: ২০০৩ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন’-এর পরিবর্তে নতুন আইনের মাধ্যমে র্যাবের নাম বদলে এসআরএফ বা এসআরবি করা হবে।
সম্পদ ও দায়দেনা স্থানান্তর: নতুন কাঠামো কার্যকর হলেও র্যাবের বর্তমান সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, চলমান মামলা ও চুক্তি নতুন ইউনিটের অধীনে চলে যাবে। ফলে এটি কার্যত পূর্ণ বিলুপ্তি নয়, বরং নাম ও আইনি পুনর্গঠন।
নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা: নতুন ইউনিটটি সরাসরি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) আদেশ ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইউনিট পরিচালনা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দায়িত্বে থাকবেন মহাপরিচালক (ডিজি)।
অন্যান্য বাহিনীর উপস্থিতি বহাল: মানবাধিকারকর্মী ও তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ছিল শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করা। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।
তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা: বর্তমান র্যাব মূলত অভিযান ও গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধ থাকলেও, নতুন খসড়ায় এই ইউনিটকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ, সাইবার অপরাধ, পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রতিকার কমিটি: বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যার চারজনই থাকবেন পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তা।
কার্যক্ষেত্র ও পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে সারা দেশে র্যাবের কার্যক্রম থাকলেও নতুন ইউনিটের কাজের পরিধি কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ করা যায় কি না—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সার্বিক খসড়াটি চূড়ান্ত করতে আগামী ২৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।