চলতি সপ্তাহেও স্বাভাবিক হচ্ছে না গ্যাসের সরবরাহ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশে চরম গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কাটাতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এদিকে গ্যাস না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে বৃদ্ধি পেয়েছে লোডশেডিং, আর তীব্র ব্যাঘাত ঘটছে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদনে।
সংকট আরও দুই সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে
প্রতিদিন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। দিনে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। দেশে মোট ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও এখন তা ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে এক্সিলারেট এনার্জি আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য কারিগরি কাজ সেরে আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালু করার জোর চেষ্টা চলছে। যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল এতে কাজ করছে। বয়লারটি চালু হলে দিনে আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
ভোগান্তিতে গৃহস্থালি ও পরিবহন খাত
গ্যাসের তীব্র সংকট ও নিম্নচাপের কারণে বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট এখন আরও প্রকট রূপ নিয়েছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা ও খড়ি-লাকড়ির ওপর নির্ভর করছেন।
অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ে। গ্যাস বিতরণ সংস্থা ‘তিতাস’ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক প্রান্তে তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।
শিল্প খাতে বিপর্যয়ের শঙ্কা
গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে গাজীপুরসহ সারাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলো। গাজীপুরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানার বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। শিল্পমালিকেরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সময়মতো রপ্তানি পণ্য পাঠাতে না পেরে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাড়ছে লোডশেডিং
গ্যাস সরবরাহে ঘাটের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট কমে গেছে। ফলে দিনে ও রাতে দেশজুড়ে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সামনে গরম আরও বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।