বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, “ইতালীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের এটাই উপযুক্ত সময়।”
গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ইতালির টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এক যৌথ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় আয়োজনে ইতালির ১১টি এবং বাংলাদেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান বাড়াতে ইতালীয় কোম্পানিগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিজেড) এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বেশ কয়েকটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এই বিশাল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইতালীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে ইতালীয় যন্ত্রপাতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির প্রতিনিধি আন্তোনিয়েত্তা বাক্কানারি ও সিনজিয়া ক্যাম্পানিলে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন। বক্তারা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।