চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এবারের রিটার্নে বড় সুখবর এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা উৎসে কর এখন থেকে বছর শেষে মোট করের সাথে সমন্বয় করা যাবে। এমনকি করযোগ্য আয় না থাকলে কেটে নেওয়া টাকা ফেরতও পাবেন করদাতারা।
তবে সারা বছরে কত টাকা উৎসে কর হিসেবে কাটা হলো, তার প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট দলিল ছাড়া এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। করদাতাদের সুবিধার্থে সেই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কাজ শুরু করেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের অর্জিত মুনাফা থেকে কেটে রাখা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র (Tax Certificate) দেশের প্রতিটি জেলা সঞ্চয় অফিস বা ব্যুরো এবং বিশেষ ব্যুরো অফিস থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্ব-স্ব স্থানীয় সঞ্চয় কার্যালয়ে গিয়ে এই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
এবারের বাজেট অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কেটে রাখা অগ্রিম করকে আর ‘চূড়ান্ত কর দায়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক। তবে যেসব ছোট বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে নেওয়া হয়েছে—তাঁদেরও এখন টিআইএন (TIN) নিয়ে বছর শেষে রিটার্ন দিতে হবে। রিটার্ন না দিলে কেটে রাখা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।
এদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগামী ছয় মাসের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
উল্লেখ্য, এবার বছরজুড়েই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে বিশেষ করছাড়ের সুবিধা পাবেন করদাতারা।