সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমের প্রতি টনে ২৪.০৮ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গম আমদানির এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গম আমদানির ব্যয় ও মূল্য
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা গমের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম প্রতি টনে ২৪.০৮ মার্কিন ডলার বেশি।
এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গমের গুণগত মান তুলনামূলকভাবে উন্নত হওয়ায় এর মূল্য বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের গমের বড় বাজারে বাংলাদেশ
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গম আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির পর বাংলাদেশে মার্কিন গমের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে। এর আগে দেশটি শীর্ষ ২৫ আমদানিকারক দেশের তালিকাতেও ছিল না।
স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনারও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এর মধ্যে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এবং অন্যটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে।
এই দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।