বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক অপরাধগুলোর একটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নির্ধারিত দিনেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ৯৬তম বারের মতো পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।
এ ঘটনায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ৯ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান।
তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন
২০১৬ সালে মামলা দায়েরের পর থেকে একাধিকবার সময় নিয়েও তদন্ত শেষ করতে পারেনি সিআইডি। প্রতিবারই তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকার কারণ দেখিয়ে নতুন সময়ের আবেদন করা হয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আর্থিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া এখনও তদন্ত পর্যায়েই আটকে রয়েছে।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় মামলার অগ্রগতি এবং দোষীদের বিচারের বিষয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন সাইবার অপরাধের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা বিচারপ্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যেভাবে ঘটেছিল রিজার্ভ চুরির ঘটনা
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়।
তদন্তে উঠে আসে, আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের সুইফট (SWIFT) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে হ্যাকাররা একাধিক ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠিয়েছিল। মোট প্রায় ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থা