বান্দরবান জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে রোগীর চাপ।
এই সংকটের মধ্যেই ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত চিনিপাড়া গ্রামের ২৬ বছর বয়সী লেংরুং ম্রো তার হামে আক্রান্ত দুই সন্তানকে নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের একই বিছানায় সন্তানদের সেবা করতে করতে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে তার দুই শিশু সন্তান এখনও বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তারা জানেই না, যে মা কয়েক দিন আগেও তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন, সেই মা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। এখন তাদের দেখাশোনা করছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাই এ রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।