Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক
১:২৪ অপরাহ্ণ, ৪ জুলাই ২০২৬

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা।

বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় আজ সকাল ৬টায় কমপ্লেক্সটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই ভোর থেকে সেখানে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে মানুষের ঢল নেমেছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর জন্য ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ দ্রুতগামী এই গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর অপেক্ষায় জড়ো হন।

ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত শত শত শোকার্ত মানুষ বন্ধ স্টেশনের গেটের সামনে অপেক্ষা করছেন। গেট খোলার সাথে সাথেই ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

ইতোমধ্যেই বিশাল ওই মোসাল্লা কমপ্লেক্সের ভেতরে এবং বাইরে লাখো মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক বিদায় পর্ব শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সারা দেশ থেকে মানুষের আগমন অব্যাহত থাকায় পুরো তেহরান জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

চলমান যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। এই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সেই তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

লাইনের দাঁড়িয়ে থাকা সোমাইয়ে হামেদি নামের এক নারী এএফপি-কে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করা আমাদের জন্য কষ্টের বা কঠিন কিছু নয়।’

গতকাল শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

আজ ও আগামীকাল রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছে।

গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। আজ সকাল নাগাদ সেটা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ছয়টা থেকে জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ানো সোমায়ি হামেদি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষবিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক কিংবা কঠিন কিছু নয়।’

বিপুল জনসমাগমের এ আয়োজন ঘিরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ইরান সরকার। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকাশপথ বন্ধ রাখার কথাও রয়েছে।

বলা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

আগামী সোমবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। চলবে মঙ্গলবারও।

বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ পৌঁছাবে। সেখান থেকে নাজাফের কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা হবে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

সবশেষে খামেনির লাশ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। শুক্রবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদ তার জন্মস্থান।

নিরাপত্তার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি মোজতবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এখন তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রমুখ। আরো ছিলেন ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা।

সূত্র: আল-জাজিরা. এফপি

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম