২০২২ সালের ২৫ জুন বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় রচিত হয়েছিল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। সেদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতু। চার বছর পর আজ পদ্মা সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আজ পদ্মা সেতুর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফিরে তাকালে দেখা যায়, এই সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে গত চার বছরে সেতুটি থেকে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে, যা এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ব্যাপক ব্যবহারযোগ্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
অপেক্ষার অবসান, বদলে গেছে যাতায়াতের চিত্র
পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত ছিল সময়সাপেক্ষ এবং দুর্ভোগপূর্ণ। পদ্মা নদী পার হতে হতো ফেরি, লঞ্চ কিংবা স্পিডবোটের মাধ্যমে। বিশেষ করে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও বাংলাবাজার ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
ঈদ, পূজা বা অন্যান্য উৎসবের সময় এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করত। যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ফেরির জন্য অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পদ্মা সেতু চালুর পর সেই চিত্র এখন অতীত। কয়েক ঘণ্টার পথ এখন অনেক কম সময়ে অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে।
অর্থনীতির নতুন দুয়ার খুলেছে পদ্মা সেতু
অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৮ থেকে ২০টি জেলার।