দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৪৫ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে।
এক নজরে সর্বশেষ পরিসংখ্যান:
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৯ জন (সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে)
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্ত: ৯৪৫ জন (নিশ্চিত হাম ৫২ জন, উপসর্গযুক্ত ৮৯৩ জন)
হাসপাতালে নতুন ভর্তি: ৮৬০ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন: ৯০৬ জন
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৪২ জনের শরীরে।
গত সাড়ে তিন মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬০৫ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ জনে। এই দীর্ঘ সময়ে রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৮০ হাজার ৪৯৭ জন শিশুকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা:
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শসমূহ:
১. টিকাদান নিশ্চিত করা: সরকারি নিয়মিত টিকাদান (EPI) কর্মসূচির আওতায় শিশুদের সময়মতো হামের টিকা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
২. দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া: শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং চামড়ায় লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র অবহেলা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৩. আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।