Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / সারাদেশ
১১:৪৭ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুঁটি ও বিদ্যুতের মূল লাইন থাকলেও আলো নেই, আলীকদমের পাঁচ গ্রামের শতাধিক পরিবার অন্ধকারে

খুঁটি ও বিদ্যুতের মূল লাইন থাকলেও আলো নেই, আলীকদমের পাঁচ গ্রামের শতাধিক পরিবার অন্ধকারে
জেভিন ত্রিপুরা
৩ মিনিটে পড়ুন |

বসতবাড়ির পাশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি, মাথার ওপর দিয়ে টানা হয়েছে বিদ্যুতের মূল লাইন। কিন্তু সেই লাইন থেকে বাড়িঘরে পৌঁছেনি সংযোগ। ফলে বিদ্যুতের অবকাঠামো চোখের সামনে থাকলেও আলো জ্বালানোর সুযোগ নেই বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের বহু পরিবারের।

নয়াপাড়া ইউনিয়নের যোগেন্দ্র কারবারী পাড়া, বসুদেব পাড়া, সাইয়ে ম্রো পাড়া, রোহিনীমোহন কারবারী পাড়াসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস। পাহাড়ঘেরা এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা জুমচাষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুতের অভাবে নতুন করে শুরু হয় তাদের দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের আশায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের পর এলাকার ওপর দিয়ে মূল সঞ্চালন লাইনও টানা হয়। কিন্তু বাড়িঘরে সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শাখা-প্রশাখা লাইন স্থাপন না হওয়ায় অধিকাংশ পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন স্থাপনের জন্য তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এরপর বাড়িতে সংযোগ ও শাখা লাইন দেওয়ার জন্য আবারও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় অনেকেই সংযোগ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিতা তংচঙ্গ্যার ঘরের ওপর দিয়েই গেছে বিদ্যুতের তার। অথচ ঘরে নেই বিদ্যুতের আলো। রাতে চার বছরের শিশুকে খাবার খাওয়াতেও তাকে নির্ভর করতে হয় মুঠোফোনের আলোয়। সঞ্জিতার ভাষ্য, বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন এলেও সংযোগের জন্য অর্থ দাবি করায় তারা বিদ্যুৎ নিতে পারেননি।

একই চিত্র স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংচিংনু তংচঙ্গ্যার ক্ষেত্রেও। তার দোকান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি প্রায় ১০০ গজ দূরে। কাছেই বিদ্যুতের লাইন দেখা গেলেও দোকানে সংযোগ না থাকায় দুই বছর ধরে সৌরবিদ্যুতের আলোতেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০০টি বসতবাড়ির মধ্যে মাত্র চারটি বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছে। অন্য পরিবারগুলো রাতে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, মোমবাতি কিংবা চেরাগের ওপর নির্ভর করছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই সৌরবিদ্যুতের ক্ষীণ আলোয় পড়াশোনা করছে।

যোগেন্দ্র কারবারী পাড়ার বাসিন্দা চিংচাহ্লা তংচঙ্গ্যা বলেন, বিদ্যুৎ আনার জন্য খুঁটি স্থাপনের সময় অর্থ দেওয়ার পর এলাকায় মূল লাইন এসেছে। কিন্তু বাড়িঘরে শাখা লাইন দেওয়া হয়নি। পরে শাখা লাইন স্থাপনের জন্যও অর্থ চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা রঞ্জন তংচঙ্গ্যার দাবি, মিটার ও শাখা সংযোগের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচের কথা বলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় এত টাকা দিয়ে সংযোগ নেওয়া তাদের জন্য কঠিন।

এ বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালে যোগেন্দ্র পাড়া এলাকায় বিদ্যুতের মূল লাইন পৌঁছেছে। তবে শাখা লাইন না থাকায় অনেক পরিবার এখনো সংযোগ নিতে পারেনি। বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জাকির হোসাইন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মচারী টাকা দাবি করলে সরাসরি অফিসে এসে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লাইন ও শাখা লাইন দেওয়ার বিষয়টিও যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফলে বিদ্যুতের খুঁটি ও মূল লাইন স্থাপনের পরও সংযোগ না পাওয়ায় পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থের বোঝা না চাপিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হোক, যাতে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো হয়ে না থেকে বাস্তবে মানুষের জীবনেও আলো পৌঁছে দিতে পারে।

এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com