বরিশাল বিভাগের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে পদায়নের পর থেকেই ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামানকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর একদল নেতা-কর্মী বুধবার তার কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কিছু সময়ের জন্য তাকে কক্ষে অবস্থানরত অবস্থায় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন, মঙ্গলবারও একই দাবিতে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা তার দপ্তরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে ডা. মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন। তাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। এসব অভিযোগের কারণে তাকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—এমন কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল রাখা উচিত নয়। দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ড্যাবের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তার ভাষ্য, তৎকালীন প্রশাসনের নির্দেশে সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে কিছু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। তবে তিনি কখনোই রাজনৈতিকভাবে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করেননি এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর বুধবার একদল চিকিৎসক তার কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির অবসান হয় এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডা. মনিরুজ্জামানকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। পরে গত ৫ জুলাই পদোন্নতি দিয়ে তাকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে একাংশ চিকিৎসক আন্দোলন শুরু করেন।
এদিকে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।