সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অর্থ দাবিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ নম্বর ব্যবহার করেও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে অফিসটির সেবা কার্যক্রম, জবাবদিহি ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাজু বড়ুয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. মোস্তফা কামাল খান এবং রেকর্ড কিপার নিউটন বড়ুয়া। অভিযোগকারীদের দাবি, এই তিন কর্মচারীকে ঘিরে অফিসে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, সরকারি সেবা নিতে একজন সাধারণ নাগরিককে যদি দালালের সহায়তা নিতে হয়, তাহলে অফিসের অভ্যন্তরীণ নজরদারি, সেবাপ্রদান ব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাসপোর্ট করে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের ঘটনাও ঘটছে। তবে এটি একটি অভিযোগ; এর সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার ক্ষেত্রে দালালচক্রের ভূমিকা, সরাসরি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরকারি স্টিকার ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন
এদিকে বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাজু বড়ুয়ার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সাজু বড়ুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি ওই স্টিকার ব্যবহার করেছেন। তবে তাকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফোন নম্বর নিয়েও অভিযোগ
পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর নিয়েও অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তাদের দাবি, ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় ফোনে সাড়া পাওয়া যায় না।
এছাড়া একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একই ফোন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং অভিযোগ জানানো নিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বরগুলো নিয়মিত সচল ও হালনাগাদ রাখা, কল রিসিভের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার দাবি, সরাসরি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দালালনির্ভরতার অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিক পাসপোর্ট সেবা নিতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পাসপোর্ট অফিস নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে সেবার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।