বান্দরবান শহরের ফাতিমা রাণী ক্যাথলিক চার্চের মিশন ও হোস্টেল ক্যাম্পাসে চুরির চেষ্টার অভিযোগে তুহিন (আনুমানিক বয়স জানা যায়নি) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের দোহাজারী, চন্দনাইশ এলাকায় বলে আটক অবস্থায় সে জানিয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হোস্টেল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগে ওই যুবক বান্দরবানের মগবাজার এলাকা থেকে একটি Android POCO মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কোনোভাবে ফাতিমা রাণী ক্যাথলিক চার্চের মিশন ও হোস্টেল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর হোস্টেলের পেছনের অংশে টয়লেটের পাশে থাকা পানি তোলার মোটর চুরির চেষ্টা করে সে। এ সময় ভাগ্যক্রমে হোস্টেলের এক শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার জন্য সেখানে গেলে ওই যুবককে দেখতে পান।
শিক্ষার্থী তাকে আটক করার চেষ্টা করলে, অভিযুক্ত যুবক তার পকেট থেকে ধারালো কাঁচি বের করে ওই শিক্ষার্থীকে আঘাত করার চেষ্টা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী চিৎকার করে অন্যদের ডাকলে হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং যুবকটিকে হাতেনাতে আটক করেন।
পরবর্তীতে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় আটক যুবক নিজের নাম তুহিন এবং বাড়ি দোহাজারী, চন্দনাইশ এলাকায় বলে জানায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সে একা নয়; তার সঙ্গে আরও দুইজন সহযোগী রয়েছে। তারা বান্দরবান শহরের মমতাজ বোর্ডিং/হোটেলে নির্মাণশ্রমিকের কাজের পরিচয়ে অবস্থান করে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে চুরির কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে সে দাবি করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আরও দাবি করে, প্রায় এক মাস আগে ফাতিমা রাণী ক্যাথলিক চার্চের বড় ঘণ্টা চুরির ঘটনাতেও তারা জড়িত ছিল। সে নিজেই ওই ঘণ্টা চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে হোস্টেল সংশ্লিষ্টরা জানান। এছাড়া বান্দরবান শহরের বিভিন্ন স্থানে এর আগেও তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করেছে বলে সে দাবি করেছে।
আটকের সময় তার কাছ থেকে ধারালো কাঁচিসহ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর হোস্টেল কর্তৃপক্ষ/শিক্ষার্থীরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল ক্যাম্পাসে দিনের বেলায় চুরির চেষ্টা এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীকে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগে ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে আটক যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সহযোগী এবং পূর্বের চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে আটক যুবকের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্য এবং পূর্বের বিভিন্ন চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার দাবিগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষ।