রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেত্রী সায়রা চন্দ্রা চাকমা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার নতুন করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করলে আলোচনায় আসে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি।
নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দীপন তালুকদার দীপু। চেয়ারম্যানসহ মোট ১৫ সদস্যের এই পরিষদে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পেশার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখা থেকে বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন পরিষদের সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়। উপসচিব মোছা. তাসলিমা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনের বিধান অনুসরণ করেই পরিষদটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
নতুন পরিষদে চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুর পাশাপাশি সদস্য হিসেবে রয়েছেন শাশ্বত চাকমা, বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, উথোয়াইমং মারমা, পাইচিং মং মারমা, সায়রা চন্দ্রা চাকমা, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মন, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, মো. তোফজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, নন্দিতা দাশ ও চন্দ্রা চাকমা।
তালিকায় সায়রা চন্দ্রা চাকমার অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের অনেকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এই তরুণ নেত্রীর জেলা পরিষদে দায়িত্ব পাওয়া রাঙামাটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত পূর্ববর্তী পরিষদ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন আদেশ জারির দিন থেকেই তা কার্যকর হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পাহাড়ের স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নতুন পরিষদে সায়রা চন্দ্রা চাকমাসহ ১৪ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি ঘিরে রাঙামাটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নতুন পরিষদের সামনে এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে পার্বত্য জেলার মানুষের প্রত্যাশা, স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ নতুন পরিষদের কার্যক্রমে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেও নজর থাকবে স্থানীয়দের।