বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় গভীর রাতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে রাত ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার আলীকদম ইউনিয়নের আলীর বাজার ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়া এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালিত হয়। অভিযানে মোট পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম। এ সময় আলীকদম থানার মোবাইল-৬১ ও পেট্রোল-৬১ দলের পুলিশ সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় আলীকদম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলীর বাজার এলাকায় আলীর গুহা সংলগ্ন একটি ব্রিজের নিচে। সেখানে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে সাইফুল (১৮) ও আব্দুস ছামাদ (৩৬)-কে আটক করা হয়।
এরপর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানপাড়া এলাকায় নুরুচ্ছফার দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ ইলিয়াছ বাবু (২১) ও ইয়াছিন (২৪)-কে আটক করা হয়।
পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাইফুল ও আব্দুস ছামাদকে তিন মাস করে, ইয়াছিনকে ছয় মাস এবং মোহাম্মদ ইলিয়াছ বাবুকে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাইফুল কক্সবাজার জেলার পূর্ব ঘোনাপাড়ার বাসিন্দা এবং বর্তমানে আলীকদমের মংচাপাড়ায় বসবাস করেন। আব্দুস ছামাদ নয়াপাড়া ইউনিয়নের মংচাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ বাবু ও ইয়াছিন আলীকদম সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব পালংপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ জানান, উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। অভিযানে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তাদের বান্দরবান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আলীকদমে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।