পাহাড়ের প্রত্যন্ত বাস্তবতা থেকে উঠে এসে ফুটবল অঙ্গনে একের পর এক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বান্দরবানের ম্রো সম্প্রদায়ের তরুণ ফুটবলার প্রেনচ্যুং ম্রো। এবার বাংলাদেশের ফুটসাল অঙ্গনেও সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। Futsal League Bangladesh 2025–26-এর চ্যাম্পিয়ন IM10 FC-এর হয়ে খেলেছেন প্রেনচ্যুং ম্রো। প্রতিযোগিতার ১৮ আগস্টের ম্যাচে IM10 FC ৬–১ গোলে Xenon FC-কে হারায়।
প্রেনচ্যুং ম্রোর এই পথচলা অবশ্য শুধু একটি ফুটসাল শিরোপায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল বান্দরবানে এক মিনিটে ২০৮ বার ফুটবল টো-ট্যাপ করে তিনি Guinness World Records-এ নিজের নাম লেখান। এই কৃতিত্ব তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে এবং বাংলাদেশের ম্রো জনগোষ্ঠীর পরিচয়ও দেশের বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করে।
ফুটবলে তাঁর পথচলাও দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ঢাকা ফোরটিজ এফসি, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে কিশোয়ান এফসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে খেলেছেন। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলেও তিনি সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয় পর্যায়েও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে এএফসি ফুটসাল এশিয়ান কাপ ২০২৬-এর বাছাইপর্বের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটসাল দলের ২৪ সদস্যের স্কোয়াডে প্রেনচ্যুং ম্রোর নাম ছিল।
পাহাড়ের সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রেনচ্যুংয়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য ম্রো তরুণদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—সুযোগ ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
গিনেস বিশ্বরেকর্ড থেকে জাতীয় ফুটসাল দল, আর সেখান থেকে লিগের চ্যাম্পিয়ন দলের অংশ হওয়া—প্রেনচ্যুং ম্রোর ক্যারিয়ারের এই অগ্রযাত্রা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; পাহাড়ের তরুণ ক্রীড়াবিদদের স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রেও এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।