Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / সারাদেশ
৪:৩৯ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬

লঘুচাপের মধ্যেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট

লঘুচাপের মধ্যেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে, যা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, আর মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় আছে।

এর প্রভাবে আজ রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি, কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আর বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সকাল ছয়টা নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয় টেকনাফে, আর রাজধানীতে হয়েছে ১৩ মিলিমিটার।

আগের কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়লেও সহজে কমছে না ভ্যাপসা গরমের দাপট। ভাদ্রের প্রখর রোদ আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ৫-১০ ডিগ্রি বেশি অনুভূত হচ্ছে গরম, যাতে দেশজুড়ে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর রাজধানীতে ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি, যা তার আগের দিনের চেয়েও বেশি। আবহাওয়া দপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী ৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রিকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হলেও গত কয়েকদিন ধরে দেশের একাধিক জেলায় বয়ে যাওয়া এই মৃদু তাপপ্রবাহ আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে পারছে না, বরং বৃষ্টির পরই রোদের প্রখরতায় ভ্যাপসা গরম আরও বেড়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তাপ বেরোনোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে থার্মোমিটারের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয় বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, যা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আবারো ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, লঘুচাপের প্রভাবে প্রথমে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়বে, এরপর ধাপে ধাপে সারাদেশেই বৃষ্টি বেড়ে কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, বৃষ্টি বাড়লেও তাতে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, বরং বৃষ্টি কমে গেলেই আবার বেড়ে যাবে ভ্যাপসা গরম। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়াও জানিয়েছিলেন, লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ সারাদেশে আরও কয়েক দিন ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, আর বর্তমান পরিস্থিতি সেই পূর্বাভাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম