Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / শিক্ষা
৪:৪৪ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২৬

ফলাফল নয়, সন্তানের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এসএসসি ফল প্রকাশের দিনে অভিভাবকদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান

ফলাফল নয়, সন্তানের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এসএসসি ফল প্রকাশের দিনে অভিভাবকদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান
জেভিন ত্রিপুরা
৩ মিনিটে পড়ুন |

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে চলছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দনের পর্ব। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে যেমন আনন্দ বিরাজ করছে, তেমনি প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, কষ্ট ও মানসিক চাপ। এমন পরিস্থিতিতে ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের এই সাফল্য পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল। তাদের আগামীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পথচলা আরও সুন্দর ও সফল হোক—এমন প্রত্যাশা সবার। একই সঙ্গে যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি কিংবা এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন করে চেষ্টা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

ফলাফল প্রকাশের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন অভিভাবকরাই। সন্তান প্রত্যাশিত ফলাফল না করলে অনেক সময় হতাশা, রাগ কিংবা সামাজিক তুলনার কারণে বাবা-মা এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যা একজন কিশোর-কিশোরীর মনে গভীর আঘাত তৈরি করতে পারে। “অমুকের ছেলে এত পেয়েছে, তুমি পারলে না কেন?”, “তোমার দ্বারা কিছু হবে না”—এ ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বোঝানো প্রয়োজন যে একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া জীবনের শেষ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে কিশোর-কিশোরীদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা, সামাজিক তুলনা, পারিবারিক চাপ ও অপমানের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তাই ফল প্রকাশের দিন ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আচরণ ও মানসিক অবস্থার প্রতি অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী অতিরিক্ত হতাশ হয়ে পড়লে, নিজেকে গুটিয়ে নিলে কিংবা নিজের জীবন নিয়ে হতাশাজনক কথা বললে তাকে একা না রেখে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বস্ত ব্যক্তি ও পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।

একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার পুরো গল্প নয়। একটি ফলাফল আবার উন্নত করা সম্ভব, প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব, একটি বছর পিছিয়ে গিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু একটি জীবন হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ফলাফল নিয়ে সমালোচনা বা অপমানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সাহস দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সামনে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।

সফল শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও উদযাপন যেমন প্রয়োজন, তেমনি যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি তাদের অনুভূতির প্রতিও সম্মান দেখানো প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কারও সাফল্য অন্য কোনো শিক্ষার্থীর হতাশার কারণ না হয় এবং কেউ নিজের ফলাফলের জন্য নিজেকে একা বা মূল্যহীন মনে না করে।

অভিভাবকদের প্রতি তাই আহ্বান—সন্তানের ফলাফলকে নয়, আগে সন্তানের মানুষটিকে দেখুন। আজ হয়তো সে আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; কিন্তু ভালোবাসা, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আগামীকাল সে আরও ভালো কিছু করতে পারে। তাকে বলুন, “ফলাফল যা-ই হোক, তুমি আমাদের সন্তান। আবার চেষ্টা করো, আমরা তোমার পাশে আছি।”

কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি অংশ মাত্র—জীবন তার চেয়ে অনেক বড়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু পরিবার, সমাজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটু সহমর্মিতা, একটু উৎসাহ এবং পাশে থাকার মানসিকতা।

এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম