Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / অপরাধ
১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, ৪ আগস্ট ২০২৬

দক্ষিণখানে নারী দন্তচিকিৎসক হত্যা: স্বামী ২ দিনের রিমান্ডে, যেসব কারণে পুলিশের সন্দেহের তীরে

দক্ষিণখানে নারী দন্তচিকিৎসক হত্যা: স্বামী ২ দিনের রিমান্ডে, যেসব কারণে পুলিশের সন্দেহের তীরে
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

রাজধানীর দক্ষিণখানে দন্তচিকিৎসক সারা রোকসানা (৪২) হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী মো. সোহেল রানাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

​মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

​চুরি না হত্যাকাণ্ড? পুলিশের সন্দেহের মূল কারণসমূহ

​প্রাথমিকভাবে জানালার গ্রিল কাটা ও ২০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির তথ্য দেখে চোর বা ডাকাত দলের কাজ মনে করা হলেও, পুলিশের সূক্ষ্ম তদন্তে বের হয়ে আসে একাধিক সন্দেহজনক সূত্র:

  • জুতার ছাপের মিল: জানালার ভেতরের বারান্দায় যে জুতার ছাপ পাওয়া গেছে, তা সোহেল রানার নিজের বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে জানালার বাইরে বা বিপরীত পাশে অন্য কারও জুতার ছাপ পাওয়া যায়নি।
  • শব্দহীন গ্রিল কাটা: গ্রিল কাটা থাকলেও আশপাশের প্রতিবেশীরা কোনো ধরনের শব্দ শুনতে পাননি।
  • দরজা খোলা থাকা: ঘটনার দিন স্কুলে যাওয়ার আগে সারা রোকসানা ভেতর থেকে ঘরের দরজা আটকাননি, যা সচরাচর তিনি করতেন।
  • অক্ষত আলমারি ও সাজানো বাক্স: সোহেল রানার ব্যবহৃত আলমারিটি পুরোপুরি অক্ষত ছিল। গয়নার খালি বাক্সগুলো গুছিয়ে রাখা দেখে পুলিশের ধারণা—ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার সাজানো নাটক সাজানো হয়েছে।
  • স্বামীর রহস্যজনক আচরণ: স্ত্রীকে ওই অবস্থায় দেখেও সোহেল রানা তাঁকে স্পর্শ করা বা প্রাথমিক চিকিৎসার কোনো চেষ্টা করেননি।

​পার পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন

​পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সোহেল রানা স্ত্রীর অন্য কারও সাথে সম্পর্কের সন্দেহ থেকে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন।

​অন্যদিকে, নিহতের পরিবারের অভিযোগ—সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন এবং তাঁর নিজেরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মৃত্যুর কিছুদিন আগে সারা রোকসানা তাঁর বোনের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

​যেভাবে ঘটনাটি সামনে আসে

​গত ৩০ জুলাই দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার বাসা থেকে ১০ বছর বয়সী মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পর বাসায় একা ছিলেন সারা রোকসানা। বেলা সাড়ে তিনটায় মেয়েটি স্কুল থেকে ফিরে মাকে বিছানায় বালিশচাপা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্কুলের অধ্যক্ষের ফোন থেকে বাবাকে বিষয়টি জানালে সোহেল রানা ও স্বজনেরা বাসায় আসেন।

​সোহেল রানার দাবি

​রিমান্ড মঞ্জুরের পর আদালত থেকে নামানোর সময় সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন,

​“আমি খুন করিনি। পুলিশ কোনো আসামি না পেয়ে আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমি সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”

​বর্তমানে মামলাটির গভীর তদন্ত চলছে এবং রিমান্ডে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম