ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই সৌদির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে রোববার (২ জুলাই) আল মায়েদিন নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন চাপ প্রয়োগের কৌশল ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের অব্যাহত প্রতিরোধের মধ্যে, ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার পরিকল্পনা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি সামনে আসে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই হামলার জন্য চূড়ান্ত আদেশ দেননি।
তবে ট্রাম্পের ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের ইরান পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছতা চাইছে রিয়াদ
সৌদি কর্মকর্তারা এই সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সৌদি উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধ নিয়ে কর্মপরিকল্পনার স্পষ্ট বার্তা চেয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সৌদির একটি সূত্র জানায়, বিন সালমান ট্রাম্পকে উত্তেজনা কমাতে এবং হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তবে, হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কর্তৃক চালানো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা একাধিক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদিকে লক্ষ্য করে বলেন, তেহরান তার সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে সহযোগিতাকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ও আনুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, যেকোনো হামলার জবাবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান শত্রুর সব ঘাঁটি এবং যেকোনো স্থান থেকে হওয়া হামলার জবাব দেবে।
সূত্র: আল মায়েদিন