পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কার্যকারিতা নিশ্চিতের ওপর জোর
বরিশাল: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের দুই তীরে আয়োজিত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সবুজায়ন কর্মসূচি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন এবং খালের দুই তীরে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই করবে না, বরং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী পাশের বাটাজোর এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাদের জীবনযাত্রা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি মতামত শোনেন।
উপকারভোগীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারায় তাদের পারিবারিক ব্যয় কিছুটা কমেছে। তারা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধা যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা বৈষম্য ছাড়া প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরিকল-বাটাজোর খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীল একটি সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলারও সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ, কৃষি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মতবিনিময় সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সরকারের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।