সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন।
এর আগে, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার না দেখানো এবং হয়রানি না করার নির্দেশনা দিয়ে গত ১৭ মে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। ওই সময় তার আইনজীবীরা জানান, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
পরবর্তীতে, গত ২৩ মে পৃথক সাতটি মামলায় জামিনের পর তাকে নতুন করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ৩০ জুন ওই মামলায়ও তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপরও রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।
এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাঁচ মামলাসহ মোট আটটি মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
সব বিদ্যমান মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় এবার বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের নতুন মামলায় এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করল পুলিশ।