Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / অর্থনীতি
২:৫৭ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মধ্যরাতে পাম্পে ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা-হট্টগোল

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মধ্যরাতে পাম্পে ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা-হট্টগোল
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের বর্ধিত মূল্য কার্যকরের মধ্যরাতে পেট্রল পাম্পগুলোয় ব্যাপক বচসা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। রাজধানী ঢাকার অনেক পাম্পে তর্ক-বিতর্ক গড়ায় হাতাহাতি ও মারামারি পর্যন্ত।

রোববার রাত ১২টার পর রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কোনো পেট্রল পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করতেও দেখা যায়। তিন মাসের ব্যবধানে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতারা।

রাজধানীর হাজীপাড়া পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে আসা একদল যুবক পাম্পের কর্মচারীদের অশ্রাব্য ভাষায় বকাঝকা করছেন। তাদের একজন, পাশের রামপুরার বাসিন্দা খোকন আমার দেশকে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টায় জানলাম, ১২টা থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। আমি ১১টা বাজার কিছুক্ষণ পর এখানে আসি আগের দামে কিছু অকটেন কিনে রাখব—এই আশায়। এসে দেখি তেল বিক্রি বন্ধ। বিক্রি বন্ধ করে তারা বাড়তি দামে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত এ কারণেই গ্রাহকরা ক্ষেপেছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাম্পের কর্মচারী বাবুল বলেন, ‘আমরা ১২টা পর্যন্ত আগের দামেই তেল বিক্রি করেছি। এরপর থেকে মেশিনে নতুন দাম সেটআপের কাজ চলছে। দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। সরকার দাম বাড়িয়েছে। আমরা কেবল সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করছি।’

সরকার রোববার রাতে হঠাৎ করে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম সোমবার প্রথম প্রহর থেকে কার্যকর হয়। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয়।

দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর

কমল স্বর্ণের দাম
২ মাস আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম