জাপানের টোকিওর আকাবানে বিভিও হলে গত ৩০ আগস্ট জাপান ছাত্রলীগের উদ্যোগে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগস্ট মাসকে ঘিরে স্মরণ, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন বক্তারা।
শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নিঝুম মজুমদার। এছাড়া জাপান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতন ও হয়রানির বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি জাপানে অবস্থানরত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংগঠন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনজীবী নিঝুম মজুমদার ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটির রাজনৈতিক ও আইনগত ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল।
তিনি নেতাকর্মীদের শুধু স্লোগান বা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত বই পড়া এবং আওয়ামী লীগের ইতিহাস, রাজনৈতিক দর্শন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আহ্বান জানান। তার মতে, ইতিহাস ও রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশ ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হবে।
সভায় জাপান ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাইসুল ইসলাম রকি সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি সংগঠনের কার্যক্রম, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে কথা বলেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাপান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। আলোচনা ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শোকসভা শেষ হয়।