তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নতুন করে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের পর পাহাড়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের পরিবর্তে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে জেলা পরিষদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবারও সামনে এসেছে—এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া কবে চালু হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদগুলোর কাছে বিভিন্ন সরকারি বিষয় ও বিভাগও হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে নতুন ব্যবস্থা তৈরি হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিতেও জেলা পরিষদ পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নির্ধারিত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বর্তমানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পৃথক আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা প্রকাশ করেছে।
তবে বাস্তবে নির্বাচিত পরিষদের পরিবর্তে মনোনীত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে জনগণের কাছে পরিষদের জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি দুর্বল হয়ে পড়ে।
সমালোচকদের মতে, একটি কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত জনগণের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহি। তাই জেলা পরিষদে স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় নির্বাচনী কাঠামো নির্ধারণ এবং একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট আইন, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী এলাকার বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ অবস্থায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা কতদিন চলবে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত পরিষদ কবে গঠিত হবে—এ প্রশ্নই এখন নতুন করে সামনে এসেছে।
পাহাড়ের বিভিন্ন মহলের দাবি, শুধু চেয়ারম্যান ও সদস্য পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়; স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই জেলা পরিষদ ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করা প্রয়োজন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নিয়ে সরকার ভবিষ্যতে নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।