Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / সারাদেশ
১০:০৩ পিএম, ২১ আগস্ট ২০২৬

১৬ সন্তানের ১৩ মেয়েই উচ্চশিক্ষিত, ৮ বোন এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

১৬ সন্তানের ১৩ মেয়েই উচ্চশিক্ষিত, ৮ বোন এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

কক্সবাজারের রামুতে এক পরিবারে ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ মেয়ে ও ৩ ছেলের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে ৮ মেয়েই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছেলেরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত।

যে সময়ে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই ছিল সামাজিক বাধার কারণ, সেই সময়েই কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামু জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের, ঘোনার পাড়ার মরহুম উলা মিয়া। সমাজের নানা বাধা উপেক্ষা করে তিনি দৃঢ় ছিলেন ছেলে-মেয়ে সবাইকে শিক্ষিত করতে হবে। চার দশক পর সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে হুসনে আরা বেগম, সাবেকুন্নাহার কাজল, মুজিবুন্নাহার , রিজিয়া আক্তার, সেলিনা আক্তার, তাহমিদা ইয়াছমিন, ফাহমিদা ইয়াছমিন, শারমিন আফরোজ নওরীন তারা আট বোন বিভিন্ন জায়গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় কর্মরত আছেন।

বড় মেয়ে হুসনে আরা বেগম বলেন, বাবা সবসময় বলতেন, মেয়েদের শিক্ষিত হতে হবে। তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতেই আমরা শিক্ষকতায় এসেছি। এখন গ্রামের শিশুদের পড়াতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে হয়।

উলামিয়ার বড় ছেলে এবং রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, “বাবা বলতেন, শিক্ষাই সম্মান। তাঁর দেখানো পথেই আজ আট বোন হাজারো শিশুর জীবন গড়ছে।

তিনি আরো বলেন,তখনকার সময়ে পাত্র পক্ষের সহায়-সম্পত্তি দেখে মেয়ে বিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আমার বাবা ছেলে শিক্ষিত কিনা সেটা দেখেই বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের স্বামীরাও স্ব স্ব কর্মস্থলে প্রতিষ্ঠিত।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন চৌধুরী প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ ও দূরদর্শিতার কারণে এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়েছে। তাঁর পরিবার পুরো উপজেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়াও মনে করেন, একই পরিবারের আটজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল। তিনি বলেন, আমরা তাদের কাজে গর্বিত। এই পরিবার অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।

একজন বাবার জেদ, মায়ের নিরলস ত্যাগ আর সন্তানদের অধ্যবসায়ের এই গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি একটি প্রজন্মকে বদলে দেওয়ার গল্প। শিক্ষার আলোয় আলোকিত এই পরিবার এখন রামুর অসংখ্য পরিবারের জন্য প্রেরণার নাম।

নারীশিক্ষার প্রসারে এমন পরিবারই পারে সমাজের প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে এবং একটি সুন্দর, শিক্ষিত ও আলোকিত দেশ গড়ার পথ দেখাতে।

এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম