টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, এই হামলার উদ্দেশ ইরানের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।
হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেখানে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সময়ে দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা ফার্স।
ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায়ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এতে শহরের বাইরের একটি সামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে শহরের ভেতরে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সাম্প্রতিক দফার হামলায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছিল। তবে তাবরিজ ও তেহরানে হামলা সেই ধারার বাইরে নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান একাধিকবার কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা