Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / জাতীয়
১:৩০ অপরাহ্ণ, ৬ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা সরকারের

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর গুলশানের বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে বাসভবনটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এর চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার সম্মতি দেয়। পরে ১৫ জুন কেপিআই ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৯৮১ সালের ৩১ মে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশান এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নামজারি হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে বসবাসের উপযোগী করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ওই বাসভবনে ওঠেন তারেক রহমান। এরপর থেকে সপরিবারের সঙ্গে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি এই বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সরকারপ্রধানের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রস্তুত রাখা হলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের একটি অংশ যমুনা থেকে পরিচালিত হলেও তার আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণার ফলে বাসভবনটির আঙিনা নিরাপত্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা এবং বাসভবনের তথ্য, নথি ও দলিলপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আঙিনা নিরাপত্তার আওতায় বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পৃথক রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। এসব নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে প্রতিটি বিশেষ শ্রেণির কেপিআইয়ের জন্য পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে।

নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই ঘোষণার পর বাসভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে। এর উপরে আরো তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।

এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে ছবি তোলা, অস্ত্র বা স্নাইপার হামলার সম্ভাবনা এবং নজরদারির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশেষ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো উচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেপিআই ছাড়পত্র নিতে হবে।

নিরাপত্তা বিধান অনুযায়ী, কেপিআই স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে কোনো নতুন ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এছাড়া কেপিআই ভবনের চারপাশের পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন গাছপালা অপসারণ করে এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে।

থাকবে পিজিআর ও বিশেষায়িত পুলিশ

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ ইউনিটও নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম