Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বিবেকবার্তা

প্রচ্ছদ / জাতীয়
১:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৯ জুলাই ২০২৬

গ্যাস সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার

গ্যাস সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চালু করা যায়নি মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধায়নেও এটি চালু করতে না পারায় দেশে গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে গত ২১ জুলাই থেকে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আবাসিকসহ শিল্প কলকারখানাগুলোতেও। গ্যাসের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন।

সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লিখেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্যাস নিয়ে বিরাজমান পরিস্থিতি তুলে ধরে টেলিফোন করে তার সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনের সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের চিঠি ও টেলিফোনে কথোপকথনের বিবরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এটি এরই মধ্যে কুয়ালালামপুরে গিয়ে হস্তান্তর করেছেন। চিঠির মাধ্যমে এফএসআরইউ বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চিঠি দেওয়ার পর গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমান মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া গেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, এ সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার টিমের সঙ্গে কথা বলবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। এর পাশাপাশি তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকেও আমরা কাজে লাগাতে চাই।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আবারও দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ হ্রাসের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। এ কারণে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক্সেলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে দৈনিক ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে এবং পরের সপ্তাহের শেষের দিকে এফএসআরইউটি পুরোপুরি চালু করা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, গ্যাস সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকার বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে। তিনি জানান, আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন একটি দলের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জনগণের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সর্বসাধারণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা তীব্র গ্যাস সংকটে রয়েছেন। বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নাবান্নাসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় আগামী শুক্রবার এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মোহাম্মদপুরের স্থানীয় অধিবাসীরা।

এই চরম গ্যাস সংকট নিরসনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানাধীন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট, গ্যাসের স্বল্পচাপ এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুরের অধিবাসী আবদুল্লাহ আল মামুন নামের বেসরকারি এক চাকরিজীবী বলেন, দিনে গ্যাস থাকে না। রাত ২-৩টার দিকে গ্যাস মাঝে মধ্যে আসে। তিনি জানান, মোহাম্মদপুরে মূলত গ্যাসের তিন ধরনের সমস্যা। প্রথম সমস্যা ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস লাইন। দ্বিতীয় গ্যাস লাইনে পানি জমা। তৃতীয় লাইনে গ্যাসের কোনো চাপ না থাকা। প্রায় বছরখানেক ধরে এই সমস্যা। তবে গত এক মাস ধরে একেবারেই গ্যাস নেই।

মোহাম্মদপুরজুড়ে চলমান চরম গ্যাস সংকট এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সমাধানের কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আগামী শুক্রবার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিক্ষোভ মিছিলটি দুপুর ২টায় রিং রোডে জাপান গার্ডেন সিটির সামনে থেকে শুরু হয়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। নগর উন্নয়ন ফোরাম নামের সংগঠনের ব্যানারে এ সমাবেশে যোগ দিতে মোহাম্মদপুরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন এর আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম রুবেল।

ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ২৬ জুলাই তার ভেরিফায়েড পেজে এক ভিডিও বার্তায় জানান, এ নিয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। লাইনে ১৪৮ মেগা কিউসেক গ্যাস সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
Advertise with us
আরও বিবেকবার্তা সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম