বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ সত্ত্বেও তাকে ভর্তি না করে আবারও মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও কারাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৭ জুন থেকে কারাগারে থাকাকালীন সময়েই ডা. দীপু মনি অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। এরই মধ্যে একাধিকবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেদিনই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ রোববার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি ঘটে বলে জানা গেছে। বুকে তীব্র ব্যথা, চাপ অনুভব এবং উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দিলে প্রথমে তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেই পরামর্শ বাস্তবায়ন না করে রাতেই তাকে আবার মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন বন্দির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনি ও মানবিক দায়িত্ব। চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে গুরুতর অসুস্থ একজন বন্দিকে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে ডা. দীপু মনির জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, একজন অসুস্থ বন্দির যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং মানবিকতারও দাবি।
তবে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।