বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিকভাবে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের সূচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তিনি পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) পেশ করেন।
কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়েই একজন রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ভারতের নতুন প্রতিনিধি হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো।
বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক রেলমন্ত্রী থেকে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি
ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারত সরকার তাকে বাংলাদেশে তাদের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ হয়ে স্থলপথে বাংলাদেশে আসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সরকারি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষ প্রটোকল মর্যাদা দিল ভারত সরকার
দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য একটি বিশেষ প্রটোকল সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি স্মারকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তাকে আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ইউনিয়ন ক্যাবিনেট) একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের মর্যাদা প্রদান করা হবে।
তবে ভারত সরকারের ওই স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটি কোনো স্থায়ী সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ নয় এবং ভারতের টেবিল অব প্রিসিডেন্সের বিদ্যমান কাঠামোও অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন দায়িত্বে সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের আশা, তার দায়িত্বকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।