জাপানের গুনমা প্রিফেকচারে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেওয়া হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ নিয়ে জারি করা সতর্কতা এখনো বহাল রয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ করে শিশুদের পরিবারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গুনমা প্রিফেকচারের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ সংক্রামক রোগ পরিস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪তম সপ্তাহের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরও হ্যান্ড-ফুট-মাউথ রোগের বা সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
বর্তমানে গুনমার উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল চার অঞ্চলই এই সতর্কতার আওতায় রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে গুনমায় প্রতি নির্ধারিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ড-ফুট-মাউথ রোগীর গড় রিপোর্ট জাতীয় সতর্কতা জারির নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। এরপর ১৪ জুলাই গুনমা প্রিফেকচার আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কতা জারি করে।
হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। আক্রান্তদের মুখের ভেতর এবং হাত-পায়ে ছোট ফোসকা বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। জ্বর এবং মুখে ব্যথার কারণে কোনো শিশু পর্যাপ্ত পানি পান করতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গুনমা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগটির জন্য দায়ী কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যালকোহলভিত্তিক জীবাণুনাশক যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। এ কারণে সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গুনমা প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যে আরও জানানো হয়েছে, প্রিফেকচারে ইনফ্লুয়েঞ্জার রিপোর্টও বাড়তে শুরু করেছে। কাশি বা হাঁচির সময় মাস্ক ব্যবহার কিংবা নাক-মুখ ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় গুনমায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোরও বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। কোনো শিশুর হাত-পা বা মুখে অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি, জ্বর অথবা মুখের ব্যথার কারণে পানি পান করতে সমস্যা হলে স্থানীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: গুনমা প্রিফেকচার, জাপান