বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআরের নির্মিত অস্থায়ী জাদুঘরে বিমানবন্দর ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সোনা আনার নানা অবিশ্বাস্য কায়দা তুলে ধরা হয়। এসব পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:
বই ও ডায়েরি: পাতা কেটে ভেতরের অংশে সোনার বার লুকিয়ে রাখা।
দৈনন্দিন ব্যবহৃত সামগ্রী: সাবানের ভেতর সোনার রিং এবং ছাতা, পানির ট্যাপ ও দরজার কবজার ভেতরে সোনা গোপন করা।
খাদ্যপণ্য: কফির মিনি প্যাকেটে দানাদার সোনা মিশিয়ে আনা।
ইলেক্ট্রনিক্স: ব্যাটারির ভেতরে বিশেষ কৌশলে রাখা সোনা।
ঐতিহাসিক চোরাচালান ও প্রত্নসম্পদ
শুধু বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি বা কৌশল নয়, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন চোরাচালানের নমুনাও প্রদর্শিত হয়:
পুরোনো কৌশল: ১৯৬৭ সালে ব্যবহৃত অক্সফোর্ড জুতার উঁচু সোল এবং ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসে আটক হওয়া বিশালাকার রেডিও।
দুর্লভ মূর্তি: ২০০৯ সালে হিলি কাস্টমস থেকে উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি ও পিতলের কালীমূর্তি।
৪০০ বছরের ঐতিহাসিক সনদ ও দলিল
এনবিআরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ঐতিহাসিক দলিলের অনুলিপি রাখা হয়েছে:
১৬০১ সালে রানি এলিজাবেথ কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়া বাণিজ্য অনুমোদন।
১৬১৫ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর কর্তৃক ইংরেজদের দেওয়া ব্যবসাসংক্রান্ত অনুমতিপত্র।
১৯৫৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে দেওয়া তৎকালীন সনদ।
রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও এনবিআরের তথ্য
সম্মেলনে আয়কর, মূসক ও শুল্ক বিভাগের পৃথক স্টল ঘুরে দেখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। এনবিআর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
গত পাঁচ দশকে দেশের রাজস্ব আদায় প্রায় আড়াই হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.৫ শতাংশ।
প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের ব্যয় হয় মাত্র ২১ পয়সা।
📸 ফটো কার্ড
লিংক কপি করুন