ছবি : সংগৃহীত
বৃষ্টি, বজ্রপাত আর দীর্ঘ বিরতির নাটকীয়তার মাঝেও থামানো গেল না কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফিলাডেলফিয়ায় ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে শেষ হতে রাত প্রায় ৯টা বেজে যায়। প্রথমার্ধ শেষে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে খেলা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল। তবে বিরতির আগে ও পরে আলো ছড়িয়েছেন এমবাপ্পে।
নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ১৪তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট ইরাকের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪তম মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এরপর ৬৬তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোল ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ধারণ করে দেয়।
এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন। তার ওপরে এখন শুধুই আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
ফ্রান্সের আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচে অসহায় ছিল ইরাক। তাদের চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি এশিয়ার দলটি। উল্টো বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম এশীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হলো ইরাকের।
দুই ম্যাচে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। আর শূন্য পয়েন্ট নিয়ে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে ইরাক।
বৃষ্টি-বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ থমকে গেলেও এমবাপের গোলবৃষ্টি থামেনি। শততম ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও জানিয়ে দিলেন—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনিই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরতার নাম।