জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা করতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশেষ স্বাস্থ্য দল পাঠানো শুরু করেছে গুনমা প্রিফেকচার। এক মাসব্যাপী এ কার্যক্রমে পর্যায়ক্রমে মোট ৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কুমামোতোর উকি সিটিতে (宇城市) দায়িত্ব পালন করবেন।
গুনমা প্রিফেকচার সরকারের ২৮ আগস্ট প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এই দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।
প্রতিটি দলে মূলত তিনজন জনস্বাস্থ্য নার্স (保健師), একজন নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান এবং একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় পাঁচজন থাকবেন। ছয় দিন পরপর দল পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে মোট সাতটি দল পাঠানো হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট সদস্যসংখ্যা হবে ৩৫ জন।
প্রথম দলের পাঁচজনই গুনমা প্রিফেকচারের কর্মকর্তা। তারা ৩১ আগস্ট কুমামোতোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। দ্বিতীয় দল থেকে মায়েবাশি, তাকাসাকি, কিরিউ ও নুমাতা শহরের জনস্বাস্থ্য নার্স ও ডায়েটিশিয়ানরাও পর্যায়ক্রমে এই সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
কুমামোতোতে ২৮ জুলাইয়ের ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ জাপানি ভূমিকম্পমাত্রা শিনদো ৭ রেকর্ড করা হয়। জাপান রেড ক্রসের ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ১৭ আগস্ট পর্যন্ত কুমামোতোতে ৩৯ জনের মৃত্যু, ২৬ জন গুরুতর আহত এবং ৩২৯ জন সামান্য আহত হওয়ার তথ্য ছিল। একই সময় পর্যন্ত ১,৪৪৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসসহ ব্যাপক আবাসিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও সংস্থাটি জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। গুনমার পাশাপাশি জাপানের অন্যান্য স্থানীয় সরকারও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে সহায়তা করছে। উদাহরণ হিসেবে, মিয়াগি প্রিফেকচারও ১–৩০ সেপ্টেম্বর কুমামোতোতে স্বাস্থ্য দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।