সরকারি বেতন বৃদ্ধিতে পণ্যের দাম না বাড়ানোর আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই।
রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের মজুত, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ আহ্বান জানান। সভায় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, পাইকারি-খুচরা বিক্রেতা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআইয়ের মূল বক্তব্য ও সামাজিক দায়িত্ব
বাজারে বিদ্যমান উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ার অজুহাতে চাল, ডাল বা তেলের দাম বাড়ানো যাবে না।
দেশে সরকারি চাকরিজীবীর চেয়ে বেসরকারি ও সাধারণ পেশাজীবীদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাড়তি মুনাফা, কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট
মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় শিল্পগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে এসেছে।
সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা জানান, বিদ্যমান ৪-৫টি বড় শিল্প গ্রুপকে যেকোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে আমদানিতে বড় সংকট তৈরি হবে।
চিনির বাজারে অস্থিরতার কারণ
খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধির বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, কারখানা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরায় ১-২ টাকা লাভ ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে মিলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে, যা দাম বাড়ার প্রধান কারণ।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) প্রতিনিধি জানান, গ্যাস সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লেও মিল পর্যায়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যা খুচরায় কেজিতে ১০ টাকা বাড়াতে পারে।
গতকাল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতনকাঠামোয় ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটেই বাজার নিয়ন্ত্রণে এই সতর্কতামূলক বার্তা দিল এফবিসিসিআই।