দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ কিনে নেওয়া, আদায় এবং প্রয়োজনে বন্ধকী জামানত বিক্রির সুযোগ রেখে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। ‘সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন’ বা ডামা (DAMA) আইনের আওতায় গড়ে উঠবে বিশেষায়িত বেসরকারি কোম্পানি, যারা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতিমধ্যে এই আইনের খসড়া প্রকাশ করে অংশীজনদের মতামত আহ্বান করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি, অবলোপন ও পুনঃ তফসিল করা ঋণসহ দেশের মোট সংকটাপন্ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা—যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি মামলা ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই বিপুল অর্থ আটকে থেকে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট কাটাতেই নতুন আইনের উদ্যোগ।
এই কোম্পানিগুলো পরিচালনার জন্য ব্যাংকিং ও আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ পরিচালক থাকতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া, বিভিন্ন খেলাপি ঋণ একত্র করে বন্ড বা সিকিউরিটি ইস্যুর মাধ্যমে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা যাবে। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা করা যাবে না।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে সফল এই মডেলটি বাংলাদেশে কার্যকর করতে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
১. বাজারভিত্তিক মূল্যে খেলাপি ঋণ কেনাবেচার সুযোগ রাখা।
২. ঋণ হস্তান্তরের বিদ্যমান আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করা।
৩. ব্যাংকের বন্ধকী জামানত যেন কোনো আইনি ঝামেলা ছাড়াই বেসরকারি কোম্পানির কাছে স্থানান্তর করা যায়, তার স্পষ্ট আইনি সুরক্ষা দেওয়া।
আইনটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট থেকে অচল ঋণ দূর হবে এবং দেশের আর্থিক খাতে নতুন গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।